কৃষিতে সবচেয়ে বেশি শ্রমশক্তি হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় উৎপাদনশীলতায় তলানিতে বাংলাদেশ

admin
লিখেছেন admin
পড়তে 2 মিনিট

বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি খাত হলেও এই খাতের শ্রম উৎপাদনশীলতা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ কৃষিকাজে নিয়োজিত থাকলেও, শ্রমের বিপরীতে উৎপাদনশীলতার বিচারে বাংলাদেশ সবার নিচে অবস্থান করছে। বিশ্বব্যাংক ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্যের আলোকে এ চিত্রে প্রকাশ পেয়েছে আমাদের কৃষি খাতের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে মোট শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ কৃষিতে যুক্ত থাকলেও অধিকাংশ কৃষক এখনো সনাতন পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার, উচ্চমানের বীজের অভাব, এবং সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের ঘাটতি এই স্বল্প উৎপাদনশীলতার অন্যতম প্রধান কারণ। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো যেখানে প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে তাদের কৃষকদের সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে নিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের কৃষি শ্রমশক্তি এখনো কাঙ্ক্ষিত দক্ষতায় পৌঁছাতে পারেনি।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার এবং জলবদ্ধতা ও লোনা পানির প্রবেশও কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করছে। জমিগুলোর ছোট ছোট খণ্ডে বিভক্ত থাকা বাণিজ্যিক ও যান্ত্রিক চাষাবাদের ক্ষেত্রে এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে প্রচুর শ্রম ব্যয় হলেও সেই অনুপাতে উৎপাদন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

জাতীয় অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করতে কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। আধুনিক যান্ত্রিকীকরণ, উন্নত সেচ ব্যবস্থা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদান এবং কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জোর তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীরা।

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *