বাংলাদেশ ব্যাংকের রেকর্ড মুনাফা: নিছক সাফল্য নাকি অর্থনীতিতে বড় কোনো ঝুঁকির বার্তা?

admin
লিখেছেন admin
পড়তে 2 মিনিট

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক রেকর্ড পরিমাণ নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা সাধারণ নজরে আর্থিক খাতের শক্তি নির্দেশ করলেও এর পেছনে রয়েছে নানা প্রশ্ন। আপাতদৃষ্টিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই অভূতপূর্ব আয় ইতিবাচক মনে হলেও, অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে দেশের সার্বিক আর্থিক খাতের নানা জটিলতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির চিহ্ন।

খাতসংশ্লিষ্টদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই আয়ের বড় একটি অংশ এসেছে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চড়া দামে ডলার বিক্রি এবং তারল্য সংকটে ভোগা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে উচ্চ সুদে ‘রেপো’ সহায়তা দেওয়া থেকে। ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়নের কারণে ব্যাংকের খাতায় কাগজে-কলমে এই বড় মুনাফা জমা হয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

পাশাপাশি, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার প্রতিনিয়ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মোটা অংকের ঋণ গ্রহণ করেছে। সরকার ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রদত্ত এই স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদ থেকেই এসেছে মুনাফার বড় অংশ। কিন্তু এটি অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ নিশ্চিত করার চেয়ে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়িয়ে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশেষজ্ঞরা তাগিদ দিচ্ছেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মতো মুনাফা বাড়ানো নয়; বরং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা। শুধুমাত্র অ্যাকাউন্টিং খাতার মুনাফা দেখিয়ে ব্যাংক খাতের প্রকৃত স্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব নয়, বরং জরুরি ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি নিরসন ও ঋণখেলাপি সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *