একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। তবে কেবল নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করা বা কাগজে-কলমে বিধিনিষেধ বহাল রাখাই যথেষ্ট নয়; আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং সর্বস্তরে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। জবাবদিহি ছাড়া আইনের উপস্থিতি সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারে না।
আইন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, অনেক সময় প্রয়োজনীয় ও কার্যকর আইন বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার অভাবে নাগরিকরা তার সুফল থেকে বঞ্চিত হন। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য না হলে কিংবা প্রভাবশালীরা ছাড় পেয়ে গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যায়। তাই প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা বাড়াতে সুনির্দিষ্ট মেকানিজম গড়ে তোলা প্রয়োজন।
একটি স্থিতিশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের পাশাপাশি স্বাধীন তদারকি সংস্থা ও সচেতন সমাজব্যবস্থার ভূমিকা অপরিহার্য। অপরাধ বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোন না কেন, তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা গেলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা পাবে।