দীর্ঘ ৩৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। তুমুল রাজনৈতিক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা মির্জ়া ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই অভাবনীয় জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি সমর্থিত বলয়ের অবস্থান যেমন মজবুত হলো, তেমনি দলীয় রাজনীতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত আরও শক্তিশালী হলো বলে ধারণা করছেন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ দিন ধরে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত বা রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের রেওয়াজ চলে আসছিল। তবে সাড়ে তিন দশক পর ফের নিখুঁত গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে ভোটাভুটি আয়োজন করে নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। ভোট গণনা শেষে মির্জ়া ফখরুলের জয় নিশ্চিত হতেই সমর্থক ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মির্জ়া ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই জয় কেবল একটি পদের মেয়াদ পূরণ নয়, বরং বিএনপির আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ভাবমূর্তিকে অনেকটাই উজ্জ্বল করবে। দূর থেকে দল পরিচালনা করা তারেক রহমানের রাজনৈতিক কৌশল এবং সিদ্ধান্ত যে তৃণমূল থেকে শীর্ষ স্তর পর্যন্ত কতটা কার্যকর, তা এই নির্বাচনের ফলাফলে আবারও প্রমাণিত হলো। নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের আগামী দিনের শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।