সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন ইসলামি সামরিক সন্ত্রাসবিরোধী জোট বা মক্কা জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নীতি-নির্ধারণী মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এই জোটে বাংলাদেশের উপস্থিতি দক্ষিণ এশীয় এই দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই জোটে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন। বিশেষ করে, সৌদি আরবে অবস্থানরত বিশাল শ্রমবাজার রক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সামরিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি, মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে অবদান রাখা দেশীয় অনুভূতি এবং বৈশ্বিক ইসলামিক কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রভাব বৃদ্ধি করবে।
তবে সুবিধার পাশাপাশি বড় ধরনের কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব ও শিয়া-সুন্নি মেরুকরণের মধ্যে বাংলাদেশ কোনো বিশেষ পক্ষে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থেকে যায়। এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের মূল পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’-কে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো সংঘাতময় অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণ না করে কেবল সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সহযোগিতা ও শান্তিরক্ষাতেই অবস্থান সীমাবদ্ধ রাখা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমান পদক্ষেপ হবে।