সামুদ্রিক মাছের পর এবার পুকুর ও জলাশয়ের সাধু পানির মাছেও মারাত্মক ক্ষতিকর ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’-এর উপস্থিতি ধরা পড়েছে। অতি পরিচিত রুই, কাতলা, পাঙ্গাশ কিংবা তেলাপিয়ার মতো চাষের মাছে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা মেলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষক ও পরিবেশবিদরা। গৃহস্থালির বর্জ্য ও অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক দূষণের ফলে প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেই এসব কণা প্রবেশ করছে মাছের দেহে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অসেচতনভাবে জলাশয়ে ফেলা প্লাস্টিক বর্জ্য রোদ ও পানির প্রভাবে ভেঙে অণুকণায় পরিণত হয়। পুকুরের তলদেশে জমা হওয়া এসব কণা জলজ উদ্ভিদ ও প্লাঙ্কটনের সঙ্গে মিশে যায়। মাছ যখন খাবার গ্রহণ করে, তখন অন্ত্রের পাশাপাশি এই মাইক্রোপ্লাস্টিক তাদের মাংসপেশিতেও জমে থাকে। ফলে মাছ ধুয়ে বা রান্না করেও এসব ক্ষতিকর উপাদান থেকে মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করা মাইক্রোপ্লাস্টিক দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এটি হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করা, পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা এবং এমনকি ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এখনই প্লাস্টিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও জলাশয় রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস এই মাছই বড় ধরণের স্বাস্থ্যসংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।