স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থনীতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নানামুখী চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং রপ্তানি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি তালিকা থেকে বের হয়ে উদীয়মান উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার কথা ছিল। তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর জোর দাবির মুখে এবং বর্তমান অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২৯ সালে এই উত্তরণ কার্যকর করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালেই এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নত বাজারে প্রাপ্ত শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দ্রুত বন্ধ হয়ে যেত। বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাকসহ প্রধান প্রধান রপ্তানি খাত এই ধাক্কা সামলাতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ত। অতিরিক্ত এই তিন বছর সময় পাওয়ার ফলে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য নীতি পুনর্বিন্যাস, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সই এবং অভ্যন্তরীণ শিল্প খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হলো।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সময়সীমা পেছানোর বিষয়টি নেতিবাচক নয়, বরং এটি একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। তাড়াহুড়ো করে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার চেয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে উত্তরণ নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।