সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত আবাসনে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে নানামুখী অনিয়ম ও অনৈতিক চর্চা। নিয়মানুযায়ী বরাদ্দপ্রাপ্ত চাকুরিজীবীর নিজের পরিবার নিয়ে নির্ধারিত কোয়ার্টারে বসবাস করার কথা থাকলেও, অনেকেই সরকারি বাসা বরাদ্দ নিয়ে তা সাধারণ নাগরিকদের কাছে চড়া মূল্যে সাবলেট বা পুরো বাসা ভাড়া দিচ্ছেন। ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি প্রকৃত সুবিধাভোগী সরকারি কর্মচারীরা আবাসন সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অবৈধ সাবলেট ব্যবসার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হলো অতিরিক্ত মুনাফার লোভ এবং প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতি। অনেক সরকারি কর্মচারী নিজের নামে কম খরচে সরকারি বাসা বরাদ্দ নিয়ে সেটি বাজারের প্রচলিত চড়া দামে বাইরে লোকজনের কাছে ভাড়া দেন। এরপর নিজেরা শহরের দূরবর্তী কোনো এলাকায় কম ভাড়ায় থাকেন অথবা পরিবার গ্রামে পাঠিয়ে ব্যাচেলর হিসেবে জীবনযাপন করেন। আবাসন পরিদপ্তরের নজরদারির দুর্বলতা এবং নিয়মিত পরিদর্শনের অভাবে বছরের পর বছর এই অসাধু চক্র সচল রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি বাসভবনের এই অপব্যবহার বন্ধ করতে হলে আবাসন বন্টন ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ এবং আকস্মিক সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে অবৈধ বসবাসকারীদের দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে। একই সাথে অনিয়মে জড়িত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা না গেলে এই অসাধু প্রবণতা রোধ করা সম্ভব নয়।