উন্নত জীবন ও প্রবাসী স্বামী পাওয়ার স্বপ্নে ঘর বেঁধেছিলেন বাংলাদেশি তরুণীরা, কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে এক চরম দুঃস্বপ্নে। একটি আন্তর্জাতিক স্বার্থান্বেষী ও পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে গত পাঁচ বছরে বিয়ের নামে অন্তত ৪ হাজার ২২৬ জন বাংলাদেশি নারী চীনে গেছেন। তবে তাদের অনেকের জন্যই এই প্রবাস জীবন এখন এক ‘অভিশপ্ত নরক’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্যে উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের প্রত্যন্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের টার্গেট করে এই চক্রটি কাজ করছে। চীনা পুরুষদের সাথে বাংলাদেশি মেয়েদের বিয়ের আয়োজন করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে পাচারকারীরা। কিন্তু বিয়ের পর চীনে পৌঁছানোর পরপরই বদলে যায় দৃশ্যপট। অনেক নারীকে সেখানে বন্দি অবস্থায় রাখা হচ্ছে, জোরপূর্বক বিভিন্ন অমানবিক কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং চালানো হচ্ছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এমনকি তাদের পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র কেড়ে নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা দেশে ফিরতে না পারেন।
বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, চীনে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ও নারী সংকটের কারণে বাংলাদেশি তরুণীদের এই প্রতারণামূলক বিয়ের মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে একে আইনি বিয়ে মনে হলেও এর নেপথ্যে কাজ করছে ভয়াবহ মানব পাচার সিণ্ডিকেট। ভুক্তভোগী নারীদের উদ্ধারসহ এই আন্তঃদেশীয় অপরাধ চক্র চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা।