সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মক্কা কেন্দ্রিক কূটনৈতিক উদ্যোগ বা আন্তর্জাতিক সমঝোতা মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্যও নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি হলো ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’। তবে বিশ্বরাজনীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতে কেবল নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই যথেষ্ট নয়; বরং মক্কা চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের সার্বিক স্বার্থ সুরক্ষায় কূটনৈতিক কৌশল নতুন করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত নিবিড়, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শ্রমবাজার, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং নিবিড় ধর্মীয় মূল্যবোধ। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক চুক্তি বা জোটভিত্তিক সমঝোতায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ পথ বেছে নিতে হবে। একদিকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব রক্ষা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও মানবাধিকারের প্রতি আস্থা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশের সামনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং ওআইসি (OIC) প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের প্রভাব বৃদ্ধিতে এই নতুন কূটনৈতিক পরিস্থিতি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশকে এখন কেবল শ্রম রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে নয়, বরং যৌথ বিনিয়োগ, জলবায়ু কূটনীতি এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। সময়োপযোগী এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্তই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বহুলাংশে বাড়িয়ে তুলতে পারে।