বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। তবে সাধারণ বা ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতারা কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হলেও, বড় বড় ঋণখেলাপিরা থাকেন অধরা। বছরের পর বছর হাজার হাজার কোটি টাকা খেলাপি রেখেও তারা কীভাবে পার পেয়ে যান, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। মূলতঃ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ছত্রছায়া, আইনি জটিলতা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বল নজরদারিই এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় খেলাপিদের শাস্তি না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ আইনি ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা এবং রিট আবেদনের সুযোগ। অনেক প্রভাবশালী ঋণখেলাপি অর্থ ঋণ আদালতে মামলা চলাকালে উচ্চ আদালতে রিট করে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন। ফলে ব্যাংকের পাওনা টাকা আদায় বছরের পর বছর আটকে থাকে। এছাড়া, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বারবার ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ ও পুনর্গঠনের সুবিধা বাগিয়ে নেওয়ার ঘটনাও অহরহ ঘটছে, যা বাস্তবে খেলাপির প্রকৃত তথ্য গোপন করতে সাহায্য করে।
ব্যাংক খাতের এই বিশৃঙ্খলা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমছে এবং সাধারণ আমানতকারীদের ঝুঁকি বাড়ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া খেলাপি ঋণের এই দুষ্টচক্র থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ আর্থিক আদালত গঠন, আইনি প্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়াই এই সংকট নিরসনের প্রধান উপায়।