ভারতের থেকে নামমাত্র মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভূরাজনৈতিক হিসেবনিকেশ মেলাতে গিয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে বাংলাদেশ। সূত্রে খবর, ভারতীয় সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতি ইউনিটে সামান্য দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিতেই বেঁকে বসে ঢাকার বর্তমান প্রশাসন। অথচ ভারতকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার খোঁচায় এবার চিনের অর্থপুষ্ট বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রায় ১২৭ শতাংশ বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় বিদ্যুতের বকেয়া মেটানো এবং নতুন চুক্তি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ঢাকার সাথে দিল্লির আলোচনা চলছিল। সেখানে মাত্র কয়েক পয়সা বা অত্যন্ত নামমাত্র মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হলে বাংলাদেশ তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু শক্তির ঘাটতি মেটাতে বিকল্প হিসেবে চিনা অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প থেকে চড়া দামে বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগের দামের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি বা ১২৭% বেশি ব্যয়বহুল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি যখন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বৈদেশীক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ রয়েছে, তখন রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে সাধারণ করদাতাদের ওপর এই বিপুল আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের ওপর নির্ভরতা কমানোর নামে চিনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে।