বিশ্বজুড়ে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথ। প্রবীণদের জীবনযাত্রা, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা, অবসরকালীন সুবিধা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই অর্থনৈতিক খাতটি ‘সিলভার ইকোনমি’ বা রূপালী অর্থনীতি হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল খাত এবং এর বাজারের আকার ইতিমধ্যেই কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই বিশাল বৈশ্বিক সম্ভাবনায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
জাতিসংঘের জনসংখ্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ১৬ শতাংশ মানুষের বয়স হবে ৬০ বছর বা তার বেশি। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে জন্মহার হ্রাস ও গড় আয়ু বৃদ্ধির ফলে প্রবীণদের সেবায় দক্ষ জনবলের তীব্র সংকট তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশেও ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশের সময়সীমা ধীরে ধীরে শেষ হয়ে আসছে এবং দেশের ভেতরেও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অনুপাত বাড়ছে। ফলে দেশীয় বাজার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সেবা রপ্তানি—উভয় দিক থেকেই সিলভার ইকোনমি বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ উন্মোচন করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে ইউরোপ, জাপান এবং মধ্যপ্রাচ্যে দক্ষ কেয়ারগিভার (প্রবীণ সেবা কর্মী), নার্স এবং ফিজিওথেরাপিস্টদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সঠিক প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানের পেশাগত সনদ নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ এই খাতে বিপুল সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করতে পারে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে কেয়ারগিভিং খাতের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তীব্র ঘাটতি রয়েছে, যা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ।
একই সাথে দেশের অভ্যন্তরে প্রবীণবান্ধব আবাসন, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, প্রবীণদের উপযোগী আর্থিক পণ্য এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক জোরদার করা প্রয়োজন। টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং যুবসমাজকে এই খাতে দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে সিলভার ইকোনমিকে বাংলাদেশের নতুন একটি অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।