সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের আকামা জটিলতা, আইনি সুরক্ষা এবং শ্রমবাজারের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। চিঠিতে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক শ্রম আইনের পরিবর্তন ও বাংলাদেশি কর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
কনস্যুলেট সূত্রে জানা যায়, সৌদি সরকারের শ্রম আইন কড়াকড়ি এবং বিভিন্ন খাতে নতুন করে ‘সৌদিকরণ’ নীতি বাস্তবায়নের ফলে অনেক বাংলাদেশি কর্মী নিয়মিত আকামা নবায়ন ও কফিল (নিয়োগকর্তা) পরিবর্তন নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। পাশাপাশি, অবৈধ দালালের খপ্পরে পড়ে অনেকেই কাজের প্রকৃত চুক্তি না পেয়ে বিপাকে পড়ছেন। এসব প্রবাসীর আইনি সহায়তা প্রদান ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিতে মন্ত্রণালকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সৌদি শ্রমবাজারে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশ থেকে আসা কর্মীদের যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে ভুয়া বা ‘ফ্রি ভিসা’র নামে প্রতারণা বন্ধ করতে দেশে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম জোরদার মনিটরিং করার ওপর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাসপোর্ট নবায়ন এবং কূটনৈতিক সেবা আরও দ্রুত পৌঁছে দিতে কনস্যুলেটের সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জেদ্দা কনস্যুলেটের পাঠানো প্রস্তাবনাসমূহ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সৌদি প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষা, সুরক্ষা প্রদান এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ মসৃণ রাখতে দ্রুতই সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।